এই ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার নিলামে নিয়ম মেনে বিড করে বিবৃতিদাতা প্রাক্তনদের পক্ষ থেকে ৩১ মার্কিন ডলারে ডোমেইনটি কেনা হয়েছে। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অ্যালামনাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিড করা হয়নি; প্রতিদ্বন্দ্বী বিডটি ছিল বাইরের একজনের। এই ক্রয়ে ডোমেইনটি বাইরের বিডারের হাতে যাওয়া ঠেকানো হয়েছে; অন্যথায় পুনরুদ্ধার অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারত। সময়মতো নবায়ন না করায় ডিজিটাল পরিচয় অরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার পর নেতৃত্বের সক্ষমতার প্রশ্ন এড়ানো হবে কীভাবে?
অথচ অ্যালামনাইয়ের WhatsApp গ্রুপে আশরাফ আলী এন্টুর বার্তায় ওয়েবসাইটের কাজ চলার কথা জানানো হয়েছে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে তা পুনরায় চালুর আশা প্রকাশ করা হয়েছে। মূল ডোমেইনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর উল্লেখ ছাড়াই কাজ চলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কাজ চলার আশ্বাসকে ডোমেইন হারানোর জবাব হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। আমরা পুরোনো না নতু ন ঠিকানায় সাইট চালুর পরিকল্পনা, মূল ডোমেইন ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা এবং দায়িত্ব ও তথ্য প্রকাশের পূর্ণ ঘটনাক্রম জানতে চাই।
এই বিবৃতি সাধারণ ব্লু বার্ডিয়ান তথা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। ‘আমরা’ বলতে কেবল বিবৃতিদাতাদের বোঝানো হয়েছে। সাংগঠনিক সদস্যপদের ফি দিয়ে প্রাক্তন পরিচয় নির্ধারণ করা যায় না। স্কুলের নামে পরিচালিত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্নের অধিকারও সদস্যপদের শর্তে সীমিত করা যায় না।
অ্যালামনাইয়ের কার্যক্রমে স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক, সব ব্যাচের সংযোগ, নবীনদের সহায়তা ও স্কুলের অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। যোগ্যতা কাজ ও সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন। পদ, বয়স বা প্রভাবকে জবাবদিহি এড়ানোর ছাড়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
আমাদের প্রধান উদ্বেগসমূহ
পরিচালনা, আচরণ ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নিচের প্রশ্নগুলোর জবাব আমরা চাই।
1. পদের মেয়াদ কত? এটি কি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত?
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও মেয়াদের শেষ ও পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া বিবৃতিদাতাদের কাছে স্পষ্ট করা হয়নি। ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে, অথচ মেয়াদ অস্পষ্ট রাখা হবে কেন? পদকে কারও চিরস্থায়ী অধিকার হিসেবে গণ্য করা যায় না। আমরা সাধারণ সদস্যদের অংশগ্রহণে নেতৃত্ব নির্ধারণ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সূচি চাই।
বিবৃতিদাতাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কিবরিয়া সারওয়ারকে স্পোর্টস কমিটির মূল দায়িত্বে আগের দুই বছরের পর আরও দুই বছর দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ছাড়াই পুনর্নিয়োগ এবং আগের কাজের মূল্যায়ন বা অন্যদের সুযোগের প্রক্রিয়া প্রকাশ না করার অভিযোগ জানানো হয়েছে। এত ব্যাচের মেধা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ একই কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে কেন? আমরা পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তদাতা ও মানদণ্ড এবং তানভীর রহমান বন্ধনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রভাব ছিল কি না, তার ব্যাখ্যা চাই।
2. তানভীর রহমান বন্ধনের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, নেতৃত্বের জবাব কোথায়?
তানভীর রহমান বন্ধনের বিরুদ্ধে সিনিয়র ও জুনিয়রদের ধমক, মৌখিক হুমকি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ জানানো হয়েছে। বিবৃতিদাতাদের কাছে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, আচরণ নিয়ে আপত্তির পর সিনিয়রদের সিদ্ধান্তে তাঁকে একটি বৈঠকে রাখা হয়নি; এরপর সাধারণ সভার আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও WhatsApp-এ ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়। অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে প্রমাণ সংরক্ষিত থাকার কথাও জানানো হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক ফুটবল টুর্নামেন্টে বিরোধের সময় ২০২০ ব্যাচের এক খেলোয়াড়ের পরিবারকে গালাগালি ও তাঁকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তানভীর রহমান বন্ধনের বিরুদ্ধে জানানো হয়েছে। তাঁর দলের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে ওই খেলোয়াড় ও তাঁর অতিথি এক আত্মীয়ের ওপর হামলার অভিযোগও জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের বিবরণ অনুযায়ী, কয়েকজন খেলোয়াড়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তানভীর রহমান বন্ধনের ভূমিকা নিয়ে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা যাচাইয়ের ফল ও শাস্তির মানদণ্ডসহ সিদ্ধান্ত প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।
অ্যালামনাইয়ের আনুষ্ঠানিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে একটি ম্যাচ শেষে স্কুলে ২০১৬ ব্যাচের একজন প্রাক্তনের কলার ধরার অভিযোগ তানভীর রহমান বন্ধনের বিরুদ্ধে জানানো হয়েছে; ওই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। পৃথক অভিযোগে অ্যালামনাই অফিসে সভাপতির উপস্থিতিতে জাপানে অধ্যয়নরত ২০১৮ ব্যাচের একজন প্রাক্তনকে অপদস্থ করা এবং সে ঘটনায় কোনো প্রতিবাদ না হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি অভিযোগের নিজস্ব প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা যাচাইয়ের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগকারীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার আগে ও পরে লাইভ সম্প্রচারের ফুটেজ থাকলেও ফুটবল ও ক্রিকেটের ওই দুই ঘটনার সময়ই সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়; ফলে ওই মুহূর্তগুলোর ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। বহু প্রত্যক্ষদর্শীর উপস্থিতির কথাও জানানো হয়েছে। আমরা মূল রেকর্ড সংরক্ষণ, সম্প্রচার বন্ধের কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
এসব অভিযোগে পুরো সমস্যার কেবল দৃশ্যমান অংশ উঠে আসার আশঙ্কা বিবৃতিদাতাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে। আমরা সব ব্যাচের কাছে প্রকাশ্যে তথ্য আহ্বান এবং ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়া তদন্ত কমিটিকে বক্তব্য ও প্রমাণ দেওয়ার ব্যবস্থা চাই। শুধু পরিচিত ঘটনায় তদন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানাচ্ছি।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে কী তথ্য পৌঁছেছে, কী যাচাই করা হয়েছে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার জবাব আমরা চাই। প্রভাবশালী কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে নীরবতাকে দায়িত্ব পালনের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। অভিযোগ অনিষ্পন্ন রেখে কর্তৃত্ব বহাল রাখা এবং প্রতিকার আটকে রাখার যৌক্তিকতা কী? দায়িত্ব প্রয়োগে ব্যর্থতার পর পদে বহাল থাকাকে কীভাবে ন্যায্যতা দেওয়া হবে?
3. প্রশ্নকে ‘অ্যালামনাইবিরোধিতা’ বানানোর রাজনীতি বন্ধ হোক
হিসাব, মেয়াদ বা সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ‘অ্যালামনাইবিরোধী’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে। তকমা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় না; প্রশ্ন করার পরিবেশই নষ্ট করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্তকে অপ্রশ্নযোগ্য করা যায় না। পদাধিকারীদের প্রতি আনুগত্য দিয়েও কারও ব্লু বার্ডিয়ান পরিচয় মাপা যায় না।
সেই সময়ের সাধারণ সভায় উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সদুত্তর আজও দেওয়া হয়নি কেন? সেগুলোর জবাব দেওয়াকে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়নি কেন? কয়েকজনের মধ্যে সিদ্ধান্ত চূ ড়ান্ত করে বাকিদের শুধু জানানোকে অংশগ্রহণ বলা যায় না। আমরা সভার কার্যবিবরণী, সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়নের দায়িত্ব ও অগ্রগতি প্রকাশ এবং অনিষ্পন্ন প্রশ্নগুলোর লিখিত জবাব চাই।
4. অ্যালামনাই অফিস ক্যাম্পাসের বাইরে কেন? সিদ্ধান্ত ও চুক্তি প্রকাশের দাবি
স্কুলের সঙ্গে প্রাক্তনদের সম্পর্ক দৃঢ় করার সংগঠনের অফিসের জন্য ক্যাম্পাসের সুযোগ আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সম্মিলিত পরিচয়ের সেই জায়গার বাধা সমাধান না করে বাইরে বাণিজ্যিক ভবনে অফিস নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন?
স্কুল পর্যায়েও ক্যাম্পাসে অ্যালামনাই অফিসের নজির পাওয়া যায়: পাবনা জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির স্থায়ী কার্যালয় স্কুল প্রাঙ্গণে থাকার কথা ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে; ভারতের সেন্ট মেরিজ কনভেন্ট স্কুল, আজমেরের নিজস্ব সাইটেও ক্যাম্পাসের অ্যালামনাই অফিসে যোগাযোগের নির্দে শনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব বিবরণে সিনেট ভবনে অফিসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা ব্লু বার্ডে ক্যাম্পাসের সুযোগ কতটা যাচাই করা হয়েছিল, তার নথি চাই।
স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জায়গা চাওয়া হয়েছিল কি না, প্রস্তাব ও উত্তর কী ছিল এবং কোন বিকল্প বিবেচনায় কার অনুমোদনে বর্তমান স্থান নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। এই অফিস থেকে প্রাক্তনদের কী সেবা দেওয়া হচ্ছে, তারও হিসাব আমরা চাই। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই তার যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয় না।
আমরা ভাড়ায় নেওয়া হলে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সংশোধনী; অন্য ব্যবস্থায় হলে অনুমতি বা সমঝোতার নথি প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। মেয়াদ, প্রযোজ্য ভাড়া, জামানত ও চার্জ, নবায়ন ও বাতিলের শর্ত, সাংগঠনিক ব্যয়ের দায় এবং চুক্তিকারীদের অনুমোদনও জানতে চাই। অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত তথ্য আড়াল করা গেলেও সাংগঠনিক অর্থ ও দায়ের শর্ত আড়াল করা যায় না। লিখিত চুক্তি না থাকলে স্থান ব্যবহারের ভিত্তি ও সংগঠনের দায়ের ব্যাখ্যাও আমরা চাই।
5. টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে সবার কাছ থেকে, হিসাব সীমাবদ্ধ কেন?
বর্তমান তহবিল, কোন উৎসে কার কাছ থেকে কত অর্থ এসেছে এবং কোন খাতে কেন কত খরচ হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব আমরা চাই। স্পন্সরশিপকে আপত্তির বিষয় করা হচ্ছে না; আমরা এর অর্থের ব্যবহারেও একই জবাবদিহি চাই। শুধু আহ্বায়ক কমিটিকে হিসাব দেখানো বা চাপের পরে অস্পষ্ট PDF দেওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে। স্কুলের নামে সংগৃহীত অর্থের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন। বারবার দাবি ছাড়া হিসাব প্রকাশ না করাকে দুর্বল পরিচালনার পরিচয় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
আমরা পেশাগত মানের প্রতিবেদনে হিসাবের সময়কাল ও শুরুর জের, স্পন্সর, অনুদান, চাঁদা ও নিবন্ধনসহ উৎস ও দাতাভিত্তিক আয় এবং আয়োজন ও খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণ চাই। ব্যয়ের কারণ, অনুমোদন ও বিল- ভাউচার এবং নগদ ও ব্যাংকের সঙ্গে মিলিয়ে বর্তমান স্থিতি ও অমিলের ব্যাখ্যাও চাই। ফেরতযোগ্য অর্থ, অন্যান্য বকেয়া ও নির্দিষ্ট কাজে বরাদ্দ অর্থ আলাদা দেখিয়ে নথির সঙ্গে পুরো হিসাব যাচাইয়ের সুযোগ দাবি করছি।
প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ ব্যাচের জুনিয়রদের উদ্যোগে অল্প সময়ে তহবিল সংগ্রহ, স্কুলে কু রবানির আয়োজন ও দাতব্যভাবে মাংস বিতরণের পরপরই বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হয়। জুনিয়রদের ২০২৫ সালের অনানুষ্ঠানিক ব্লু বার্ড প্রিমিয়ার লিগেও শান্তিপূর্ণ আয়োজন, প্রকাশ্য আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ব্যক্তিপ্রচার এড়ানোর নজিরের কথা জানানো হয়েছে। জুনিয়রদের মাধ্যমে স্থাপিত এই মানটু কু ও অনুসরণ করা না গেলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দাবি কীভাবে সমর্থন করা হবে?
6. ৬৫ বছর পূর্তির স্যাফায়ার জুবিলি: ব্যর্থতার ব্যাখ্যা ও বকেয়া ফেরত
৬৫ বছর পূর্তির স্যাফায়ার জুবিলি বাস্তবায়িত হয়নি। বিবৃতিদাতাদের মূল্যায়নে, নেতৃত্বের প্রতি আস্থার ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ ও অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থতাকে এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুমোদন না পাওয়ার ব্যাখ্যার সমর্থনে আবেদন, লিখিত উত্তর বা সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রকাশের দাবি আমরা জানাচ্ছি।
নথি ছাড়া ওই ব্যাখ্যাকে ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ কারণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। প্রশাসনিক বাধা থাকলেও নিবন্ধন, সংগৃহীত অর্থ ও প্রস্তুতির হিসাব এড়ানো যায় না। একটি কারণ দিয়ে অন্য ব্যর্থতার প্রশ্ন চাপা দেওয়া যায় না।
গ্রুপের বার্তায় অধিকাংশের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে; বিবৃতিদাতাদের কাছে এখনও অনেকের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে। আস্থার ভিত্তিতে দেওয়া অর্থ ফেরত পেতে এত অপেক্ষা করানো হচ্ছে কেন? আমরা বকেয়ার সংখ্যা ও অঙ্ক, অর্থের বর্তমান অবস্থান এবং ফেরতের নির্দিষ্ট সময়সূচি চাই। প্রস্তুতি ব্যয় হয়ে থাকলে তার নথিও চাই। আয়োজন না হওয়ার পরও যে অর্থ খরচ হয়নি, তা এত দিন ফেরত দেওয়া হলো না কেন? আমরা এই বিলম্বের লিখিত ব্যাখ্যা চাই। এভাবে অর্থ ফেরত আটকে রাখা হলে নতু ন করে আস্থা কীভাবে প্রত্যাশা করা হবে?
7. ব্যক্তিপ্রচারের এত আয়োজন, কাজের হিসাব প্রকাশে এত অনীহা কেন?
আয়োজনজুড়ে ব্যক্তির ছবি ও পোস্টারের প্রদর্শনী নিয়ে বিবৃতিদাতাদের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হচ্ছে। স্কুলের সম্মিলিত পরিচয়কে কয়েকজনের ব্যক্তিগত প্রচারণার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রবণতাকে ব্যক্তিপূজা ও আনুগত্যের সংস্কৃ তির প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
পোস্টারে ছবি বড় করাকে অবদানের মাপকাঠি ধরা যায় না। কাজ, স্বচ্ছতা ও অন্যদের সুযোগ দেওয়ার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ব্যক্তিপ্রচারে সাংগঠনিক অর্থ ব্যয় হয়ে থাকলে তার অঙ্ক ও অনুমোদন প্রকাশের দাবি আমরা জানাচ্ছি।
8. কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে; কার্যকর অ্যালামনাই কোথায়?
দেশ-বিদেশে কমিটি ঘোষণার পরও বিবৃতিদাতাদের পর্যালোচনায় কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা, সম্মতিভিত্তিক ডেটাবেস, পেশাগত নেটওয়ার্ক ও মেন্টরশিপে দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। আমরা যুক্ত সদস্যের সংখ্যা, চালু সেবা, উপকৃ তদের সংখ্যা এবং নবীনদের সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। কমিটি ঘোষণাকে সেবা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
সম্মানজনক পরিবেশ ছাড়া অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা যায় না। প্রশ্নের বিনিময়ে অপমানের আশঙ্কা তৈরি করা হলে প্রাক্তনদের দূরত্বের দায় তাঁদের ওপর চাপানো যায় না। সম্পর্কে র ভিত্তিতে সুযোগ বণ্টন করে যোগ্যদের দূরে ঠেলে দেওয়া হলে পুরো স্কুলের পরিচয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
9. জুনিয়রদের শ্রম নেওয়া হচ্ছে, নেতৃত্বের সুযোগ কোথায়?
তরুণদের দিয়ে মাঠের কাজ করিয়ে সিদ্ধান্ত ও স্বীকৃতি কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার অভিযোগ জানানো হয়েছে। কাজের প্রয়োজনে মূল্যায়িত যোগ্যতাকে দায়িত্ব বণ্টনের সময় উপেক্ষা করা হবে কেন? কাজ ও অবদানের ভিত্তিতেই দায়িত্ব ও স্বীকৃতি বণ্টন করা প্রয়োজন।
২০২০ সালে ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ ব্যাচ এবং ২০২৩ সালে ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ ব্যাচের উদ্যোগে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের যৌথ নেতৃত্বে আয়োজন ও পরিচালনার দাবি আমরা জানাচ্ছি। সভাপতি ও সম্পাদক পদ ছাড়াই সমমর্যাদার আয়োজক দলে তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ চাই। শেষে ছবি তোলার সারিতে অবস্থান দিয়ে মাঠের শ্রমের হিসাব বদলানো যায় না।
আমাদের দাবি
- 01
আমরা ডোমেইন নবায়ন, নিয়ন্ত্রণ হারানো ও তা রক্ষার পদক্ষেপের নথিসহ ঘটনাক্রম এবং বর্তমান নিয়ন্ত্রণ ও ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনা প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার সংশোধন এবং দায়িত্ব নির্ধারণ চাই।
- 02
আমরা সব দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মেয়াদ ও ক্ষমতার পরিধি, কিবরিয়া সারওয়ারের পুনর্নিয়োগের ভিত্তি এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব নির্ধারণ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের নিয়ম ও সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।
- 03
আমরা তানভীর রহমান বন্ধনের বিরুদ্ধে অভিযোগে অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি চাই। সব ব্যাচ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। গুরুতর অসদাচরণ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁকে অ্যালামনাই ও স্কুলসংশ্লিষ্ট সব আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।
- 04
আমরা অভিযোগ উপেক্ষা, ভয়ভীতি, প্রতিহিংসা বা মতপ্রকাশ দমনে অন্যদের ভূমিকারও তদন্ত চাই। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ব্যর্থতা বা অভিযুক্তকে সুরক্ষা দেওয়ার দায় প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দাবি করছি। গুরুতর অসদাচরণ প্রমাণিত অন্যদের ক্ষেত্রেও একই আজীবন নিষেধাজ্ঞা চাই।
- 05
আমরা পূর্ণ নথিসমর্থিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা চাই। উৎস ও দাতাভিত্তিক আয়, খাতভিত্তিক ব্যয়, বর্তমান স্থিতি ও বকেয়ার হিসাব; অর্থ ফেরতের সময়সূচি এবং জুবিলির প্রশাসনিক অনুমোদনসংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।
- 06
আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে অফিসের কারণ, বিকল্প যাচাই, স্থান ব্যবহারের চুক্তি বা অন্য ব্যবস্থার শর্ত, ব্যয় ও অনুমোদন প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। নিয়মিত উন্মুক্ত সাধারণ সভা, কার্যবিবরণী ও অগ্রগতি প্রকাশ এবং নেটওয়ার্ক, ডেটাবেস, মেন্টরশিপ, ক্যারিয়ার সহায়তা ও নতু ন নেতৃত্বের সময়বদ্ধ পরিকল্পনা চাই।
আমাদের অবস্থান এবং আহ্বান
নিলামে ডোমেইনটি কেনার মাধ্যমে বাইরের বিডারের হাতে যাওয়া ঠেকানো হয়েছে এবং একটি ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাও সামনে আনা হয়েছে। আগামী এক বছর এটি বিবৃতিদাতা প্রাক্তনদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। সাধারণ প্রাক্তনদের স্বতন্ত্র মূল্যায়নের জন্য এই ওয়েবসাইটে অ্যালামনাইয়ের কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
মর্যাদাপূর্ণ অ্যালামনাই গড়ার দায়িত্ব কয়েকজনের ওপর সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। আমরা সব ব্যাচের কাছে অভিযোগের নিষ্পত্তি, হিসাবের স্বচ্ছতা ও প্রাক্তনদের সম্মানের দাবিতে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এসব অনিষ্পন্ন রেখে একই ব্যবস্থা মেনে নেওয়া হলে দায় কেবল পদধারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
বর্তমান ব্যবস্থাকেই সম্মিলিতভাবে গ্রহণ করা হলে বিবৃতিদাতাদের পক্ষ থেকে একা অনির্দিষ্টকাল এই লড়াই চালানো হবে না। স্কুলের পরিচয়ে গর্ব করার পাশাপাশি সেই পরিচয়ের নামে পরিচালিত কার্যক্রমের দায়ও সম্মিলিতভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
যে স্কুলের সুনাম নিয়ে এত গর্ব করা হয়, সেই স্কুলের প্রাক্তনদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক অ্যালামনাই গড়তে না পারাকে কি সম্মিলিত ব্যর্থতা ও লজ্জা হিসেবে দেখা উচিত নয়? সেই লজ্জা দূর করার দায়িত্ব আর কত দিন অন্যের ওপর চাপিয়ে রাখা হবে?
আমরা সাধারণ প্রাক্তনদের অভিজ্ঞতা, ভিন্নমত ও পরিবর্তনের প্রস্তাব আহ্বান করছি।
ইমেইল: bluebirdalumniassociation@gmail.com
